বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু সংবাদ প্রতিবেদনকে ‘ভুল তথ্যভিত্তিক’ ও ‘সভাপতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে সাজানো’ বলে অভিহিত করেছে। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড দাবি করেছে, এসব অভিযোগ সত্য নয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
https://sportsworldbd9022.blogspot.com/বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের পর (আগস্ট ২০২৪) থেকে আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অতীতে বোর্ডের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
এক্ষেত্রে, বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ও ইয়েলো জোনে থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গেই লেনদেন চালিয়ে যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে ২৫০ কোটি টাকা তুলে, এর মধ্যে ২৩৮ কোটি টাকা নিরাপদ ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং বাকি ১২ কোটি টাকা বোর্ডের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিসিবি জানায়, ব্যাংক পরিবর্তন কিংবা অর্থ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত এককভাবে সভাপতির নয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুইজন বোর্ড কর্মকর্তা—বিসিবির ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা ও টেন্ডার ও পারচেজ কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম—স্বাক্ষর করেছেন। সভাপতি এখানে স্বাক্ষরকারী নন।
বিসিবি আরও দাবি করেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে ১৩টি নির্ভরযোগ্য ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অর্থ ও স্থায়ী আমানত সংরক্ষিত রয়েছে। এর ফলে বোর্ড ২–৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুদ আয় করছে, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া, গত ছয় মাসে এই ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বিসিবি প্রায় ১২ কোটি টাকার স্পনসর পেয়েছে এবং ভবিষ্যতের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরও ২০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিলেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যারা গঠনমূলক ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা করেন, তাদের প্রতি তাদের সম্মান রয়েছে। তবে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করে, সেদিকে সতর্ক থাকতে সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোর্ডের ভেতর ও বাইরে কিছু "স্বার্থান্বেষী মহল" অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিচালন ব্যবস্থা ব্যাহত করতে চাইছে বলেও বিসিবির বক্তব্য।

