Header Ads

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪

আইপিএল-পিএসএলেও ভারত-পাকিস্তান 'সংঘাত'

 চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের পরস্পর বিরোধী অবস্থান এরই মধ্যে আইসিসিকে জটিল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। ভারত সরকার রোহিত-কোহলি-বুমরাদের পাকিস্তানে পাঠাবে না। পাকিস্তান সরকারও যেকোনো মূল্যে নিজেদের দেশে টুর্নামেন্ট আয়োজনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্রীড়া কূটনীতির চাল চালিয়ে যাচ্ছে দৃষ্টিহীনদের ক্রিকেট অঙ্গনেও। ভারত কাবাডি দলের পাকিস্তান সফর আটকে দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দৃষ্টিহীনদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক পাকিস্তান হওয়ায় সেই টুর্নামেন্ট থেকেও নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে ভারত।

কেউ যদি মনে করে থাকেন ভারত-পাকিস্তানের রেষারেষি আপাতত এখানেই থেমে যাচ্ছে, তাহলে ভুল করবেন। বার্তা সংস্থা পিটিআই বলছে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) নিয়েও বিবাদে জড়াতে পারে।

২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে ভারতরয়টার্স

২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে রেখেছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। এ নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের দিক থেকে ভারতকে খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি না মেশানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তানে যেতে না পেরে ভারত অধিনায়ক বললেন, 'এটা হৃদয়বিদারক'

২০১৬ সাল থেকে পিএসএল শুরুর পর অবশ্য আইপিএল থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পিসিবি। নিজেদের লিগকেই জনপ্রিয় করে তুলতে কাজ করেছে তারা। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং সেখানে লেজার লাইটের ব্যবহার, ড্রোনের পাশাপাশি 'অগমেন্টেড রিয়্যালিটি' (এআর) ও 'ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি' (ভিআর) প্রযুক্তির ব্যবহার, সম্প্রচারে উচ্চ মান, বিদেশি তারকাদের নিয়ে আসা — সবকিছুতেই আইপিএলকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে পিএসএল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো একটি-আরেকটিকে নকল করারও অভিযোগ উঠেছে।

কিন্তু এসব নিয়ে বিসিসিআই ও পিসিবি কখনোই ঝামেলায় জড়ায়নি। কারণ, দুটি টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে ভিন্ন সময়ে। পিএসএল সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চে হয়, আইপিএল সচরাচর মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলে।

কিন্তু আগামী বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফেব্রুয়ারি-মার্চে হওয়ায় ওই সময়ে পিএসএলের দশম আসর আয়োজন করতে পারবে না পিসিবি। এর পরিবর্তে তারা এপ্রিল-মে মাসে পিএসএল আয়োজন করতে চায়। ঠিক একই সময়ে আইপিএলের ১৮তম আসরও চলবে।

আইপিএল-পিএসএল ইস্যুতে আগামী বছরও বিবাদে জড়াতে পারে ভারত-পাকিস্তানএএফপি

দুই লিগের সূচি সাংঘর্ষিক হতে চলায় বিদেশি খেলোয়াড়দের পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত পিএসএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা। তাঁদের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র পিটিআইকে জানিয়েছে, পিসিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো টুর্নামেন্টের পরিচালক সালমান নাসিরকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা নিজেদের উদ্বেগের বিষয়টি উল্লেখ করে শিগগিরই সভা ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

পিসিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা ভালো করেই জানেন, পিসিবি বিসিসিআইকে অনুরোধ করলেও তারা আইপিএলের সূচি পেছাবে না। তাই একই সময়ে দুটি টুর্নামেন্ট হতে চলেছে নিশ্চিত হয়েই তাঁরা পিসিবির কাছ থেকে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে চান, কোন কোন খেলোয়াড় পিএসএলে খেলতে ইচ্ছুক।

এ ব্যাপারে সূত্রটি পিটিআইকে বলেছে, 'আইপিএলও যদি একই সময়ে হয়, তাহলে মালিকেরা চান পিসিবি তাঁদের জানিয়ে দিক টুর্নামেন্টে করা খেলবেন। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানও কী ধরনের সূচি চায়, সেই সম্পর্কেও তাঁরা স্বচ্ছ ধারণা নিতে চান। স্বচ্ছতার অভাবে মালিকেরা উদ্বিগ্ন। কারণ, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এবং আরও কয়েকটি বোর্ড পিএসএল ড্রাফটের আগে তাদের খেলোয়াড়দের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করছে।'

ভারত বর্জনের ডাক পাকিস্তানের, কেমন আর্থিক ক্ষতি হবে আইসিসির

আগামী ২৪ ও ২৫ নভেম্বর সৌদি আরবের জেদ্দায় হবে আইপিএলের মেগা নিলাম। পিএসএলের ড্রাফট হওয়ার কথা ১৩ ডিসেম্বর। স্বাভাবিকভাবে বিদেশি ক্রিকেটাররা আইপিএলের দিকে ঝুঁকবেন। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও তারকা খেলোয়াড়দের চড়া দামে কিনে নেবে। সেটা হলে যাঁরা আইপিএল নিলামে দল পাবেন না, শুধু তাঁরা হয়তো পিএসএলের প্রতি আগ্রহ দেখাবেন।

জেদ্দায় আর ৩ দিন পরেই শুরু আইপিএলের মেগা নিলাম

সূত্রটি পিটিআইকে আরও বলেছে, 'পিএসএলের জন্য পিসিবি একটি স্বাধীন সচিবালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা প্রায় ১০ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক সালমান নাসিরকে সেই প্রতিশ্রুতি অনুসরণ করতে বলেছেন।'

আগামী বছর পিএসএলের দশম আসর শেষে পিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের চুক্তি ও আর্থিক বন্ড (ঋণপত্র) পুনর্বিবেচনা করবে। বর্তমানে পিএসএলে ছয়টি দল খেলছে। ২০২৬ সাল থেকে দল বেড়ে ৮টি হতে পারে।

এখন তিনি ডক্টর মঈন আলী

 
ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রাখায় মঈন আলীকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়। গত সোমবার কভেন্ট্রি ক্যাথেড্রালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।
মঈন আলীর জন্ম ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলের বার্মিংহামে। ১৯৯২ সালে পাবলিক ইউনিভার্সিটির মর্যাদা পাওয়া কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যায়েরও অবস্থান ওয়েস্ট
মিডল্যান্ডসে।

৩৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারকে ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, 'ক্রিকেট খেলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা মঈন আলীকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অব আর্টসে ভূষিত করছি। তাঁকে এই সম্মাননা জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।'
ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ (২০১৯ ওয়ানডে, ২০২২ টি-টোয়েন্টি) জিতেছেন মঈন আলী। ২০১৫ সালে জিতেছেন অ্যাশেজও। ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৩ ম্যাচে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে খেলেছেন ২৯৮ ম্যাচ। করেছেন ৬৬৭৮ রান, নিয়েছেন ৩৬৬ উইকেট।
গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন মঈন। খেলে যাচ্ছেন ঘরোয়া ও বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেটে। কাউন্টি ক্রিকেটে নিজ অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ক্লাব ওয়ারউইকশায়ার ও উস্টারশায়ারে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।

ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়ার পর মঈন বলেছেন, 'কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে এই চমকপ্রদ সম্মানে ভূষিত করায় আমি রোমাঞ্চিত। এর অংশ হতে পারা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিনটি ভাগ করে নেওয়া দারুণ ব্যাপার। আমি সব সময় আমার সাধ্যমতো সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন আমি আর ইংল্যান্ডের হয়ে খেলি না। তবে এখনো মানুষ আমার কাছে এসে বলে "তুমি খেলেছ বা তুমি যেভাবে খেলেছ, সেটা দেখেই আমি খেলি বা আমার সন্তানেরা খেলে।" এই কথাগুলোই আমার কাছে খেলাধুলায় সত্যিকারের সাফল্য।'
২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওভাল টেস্টে হ্যাটট্রিক করে ইংল্যান্ডকে জেতান মঈন আলী। সেটিকে তিনি ক্যারিয়ারের সেরা ব্যক্তিগত মুহূর্ত বলেছেন।
সর্বশেষ গত অক্টোবর ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) ফাইনালে খেলেছেন মঈন আলী। তাঁর পরবর্তী অভিযান বাংলাদেশেই। এবারের বিপিএলে তিনি চিটাগং কিংসের হয়ে খেলবেন।

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪

আইপিএলের নিলামে গোপালগঞ্জের সাকিব

 

শিরোনাম দেখে কি ভুরু কুঁচকে গেছে? এ আবার কোন সাকিব! সেই পরিচয় অবশ্যই জানা যাবে। আর বাড়ির ঠিকানা তো জেনেছেন শিরোনামেই। না, ভাবনার রথ ছোটানোর প্রয়োজন নেই। এই সাকিব আসলে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান নন, সাকিব হুসেইন। আর এই গোপালগঞ্জও বাংলাদেশের নয়। তবে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের মতোই একটি জেলা শহর। সেটি ভারতের বিহার রাজ্যে।

আইপিএলের নিলামে বাড়তি নজর থাকবে যে তিন পেসারের ওপর

বাংলাদেশের সাকিব আইপিএলের নিলামে দল পাবেন কি না, তা সময় হলেই জানা যাবে। ২৪-২৫ নভেম্বর জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় মেগা নিলামে। তা গোপালগঞ্জের সাকিবও আছেন নিলামের খেলোয়াড় তালিকায়। ২০ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার ছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের নেট বোলার। সেখান থেকে গত বছর ডিসেম্বরে সর্বশেষ আইপিএলের নিলামে তাঁকে কিনে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। সে সময় পুরোটা জানার আগেই অনেকেই হয়তো ভেবে নিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সাকিবকে ফিরিয়েছে নাইটরা। ভুলটা নিশ্চয়ই ভেঙেছিল, ২০ লাখ রুপি ভিত্তি মূল্য এবং পুরো নাম দেখে। সেই সাকিব এত দিনে যেমন বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছেন, তেমনি এবারের নিলামে তাঁর ভিত্তিমূল্যও বেড়ে হয়েছে ৩০ লাখ রুপি।

সাকিবের জন্ম ২০০৪ সালে গোপালগঞ্জ জেলার সদর ব্লকের দরগা মহল্লায়। বাবা আলী আহমেদ হুসেইন কৃষক, মা গৃহিণী। এমন পরিবারের গল্পগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রায় একই — আর্থিকভাবে টানাটানির সংসার। সাকিবের পরিবারও আলাদা নয়। সমস্যা আরও বাড়ে বাবার বয়স একটু বাড়ার পর। হাঁটুর সমস্যায় ভুগে কৃষিকাজ ছাড়তে হয় সাকিবের বাবাকে। এমন পরিবার থেকে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা কঠিন। খেলাটা তো একদম সস্তা নয়, খরচপাতি আছে। সাকিবও শৈশবে ক্রিকেটার হতে চাননি। সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশসেবা করতে চেয়েছিলেন। দিন শুরু হতো দৌড়ে। একদিন তাঁর পরিচিতজনেরা বুদ্ধি দিলেন, ক্রিকেটে একটু নিজেকে পরখ করে দেখো। সাকিবও নেমে পড়েন ক্রিকেটে। তারপর ধীরে ধীরে আবিষ্কার করতে শুরু করেন, তাঁর ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে আসলে সামরিক বাহিনীর উর্দিতে নয়, ক্রিকেটের জার্সিতে।



সাকিবের ক্রিকেটে উঠে আসার গল্প বাংলাদেশের গ্রাম কিংবা মফস্‌সলের আর দশজন উঠতি ক্রিকেটারের মতোই। খেলাটা একটু শেখার পর অনেকেই টেপ টেনিসে খ্যাপ খেলতে নেমে পড়েন। তাতে নিজের হাতখরচের পাশাপাশি পরিবারেরও একটু সহায়তা হয়। সাকিবও ৫০০-১০০০ রুপি পারিশ্রমিকে তখন টেনিস বলের ক্রিকেট খেলতেন। এভাবে ধীরে ধীরে বেশ ভালো পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও রান করতে শুরু করেন। সাইকেল চালিয়ে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে যেতেন অনুশীলন করতে। সাইকেল না পেলে পায়ে হেঁটে। উঠে আসার পথে সাকিবের এসব দাহকালের গল্প আগেই জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম।

সাকিব উঠে আসার পথে সব ক্রিকেটারেরই কেউ একজন থাকেন, যিনি শক্ত হাতে হাল ধরেন, বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে পথ দেখান। সাকিবেরও তেমন একজন ছিলেন—প্রয়াত মিন্টু ভাইয়া। সাকিব বড় স্বপ্ন দেখতে শিখেছেন এই মিন্টু ভাইয়ার কাছেই। ২০২১ সালে পাটনায় বিহার ক্রিকেট লিগ নিয়ে নজর কাড়েন। সুযোগ পেয়ে যান বিহার অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও। অথচ তার আগে জেলা দলেও খেলেননি। চন্ডীগড়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলার সময়ই পাল্টাতে শুরু করে সাকিবের জীবন। এর মধ্যে আরও একজন মেন্টর ও কোচ পেয়ে যান — রবিন সিং। নিজের ভাতিজার মাধ্যমে কোচ রবিন সিং জানতে পারেন, গোপালগঞ্জে খুব ভালো একজন পেসার আছেন। পরে রবিন সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

চন্ডীগড়ের সেই দিনগুলোর সুবাদে বেঙ্গালুরুতে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে ডাক পান সাকিব। সুযোগ পান সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে খেলার। সেই টুর্নামেন্টে ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচারের সময় আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর নজরে পড়েন। এরই সূত্র ধরে চেন্নাই সুপার কিংসের নেট বোলার। প্রশংসা পান মহেন্দ্র সিং ধোনি ও সৌরভ গাঙ্গুলীর।

কলকাতা নাইট রাইডার্স এর আগে সাকিবের উঠে আসার গল্পের একটি ভিডিও শেয়ার করেছিল। সেখানে সাকিবের মা জানিয়েছেন, ছেলের এক জোড়া ভালো জুতোও ছিল না। মায়ের কীভাবে তা সহ্য হবে! ছেলের জন্য তাই নিজের অলঙ্কার বিক্রি করে দিয়েছিলেন। ২০২৪ আইপিএল নিলামের শুরুর দিকের রাউন্ডে সাকিব অবিক্রিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁকে কিনে নেয় কলকাতা। তবে এখনো মাঠে নামার সুযোগ পাননি। ভারতের সংবাদমাধ্যম 'নিউজ ১৮' জানিয়েছে, সাকিব এখন অনুশীলনে ঘণ্টায় ১৫০-১৫৫ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করছেন।

এবার আইপিএলে খেলার স্বপ্নপূরণ হবে তো সাকিবের

এবার রঞ্জিতে খেলছেন বিহারের হয়ে। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১১৪ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট, যা তাঁর ক্যারিয়ারসেরা। কর্ণাটকের বিপক্ষে নিয়েছেন ২ উইকেট। এবার রঞ্জিতে এই দুটি ম্যাচই খেলার সুযোগ পাওয়া সাকিব জানেন, ভবিষ্যৎ পড়ে আছে সামনেই। আর সেই ভবিষ্যতের প্রথম বড় দরজাটা হলো আইপিএল। একবার সেটা খুলেছিল, কিন্তু আসল কাজ, অর্থাৎ মাঠে নামাটা হয়নি। এবার নামতে পারলে সাকিব নিশ্চয়ই মায়ের অলঙ্কার বিক্রি বিফলে যেতে দেবেন না!

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি: পাকিস্তান থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সরাতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে

 চ্যাম্পিয়নস ট্রফি: পাকিস্তান থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সরাতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে



অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দলগুলো সাম্প্রতিক বছরে পূর্ণশক্তির স্কোয়াড নিয়ে পাকিস্তানে নির্বিঘ্নে খেলেছে। অথচ নিরাপত্তাশঙ্কাকে কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়ে ১৬ বছর ধরে পাকিস্তান সফর করে না ভারত।

নিজেরা তো যাবেই না, অন্য দলগুলোও যেন পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে অনীহা দেখায়, সে জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) টুর্নামেন্টে অংশ নিতে চলা বাকি ৬ দেশের বোর্ডকে নাকি গোপনে লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই দাবি করেছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম 'ক্রিকেট পাকিস্তান'।

পাকিস্তান ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক হওয়ায় বেশ কিছু দিন ধরে নানা টালবাহনা করছে ভারত। নরেন্দ্র মোদির সরকার কদিন আগে জানিয়েও দিয়েছে, তারা রোহিত-কোহলি-বুমরাদের পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাঠাবে না। এর পরিবর্তে বিসিসিআই পাকিস্তানের বাইরে অথবা ২০২৩ এশিয়া কাপের মতো 'হাইব্রিড' মডেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সামনে রেখে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ চলছে

তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবার কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়। তাদের ইচ্ছা, যে করেই হোক চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিজেদের দেশে আয়োজন করার। যেহেতু ভারত ছাড়া বাকি সব দল পাকিস্তানে খেলতে রাজি, তাই ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কাকে সুযোগ দিয়ে পাকিস্তানেই আসর বসতে পারে।

এদিকে সূচি ঘোষণার সময়সীমাও ঘনিয়ে এসেছে। আগামীকালের মধ্যেই আইসিসিকে সূচি চূড়ান্ত করতে হবে। সময়মতো সূচি ঘোষণা না করলে তা সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি লঙ্ঘনের মতো ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে, যা আইসিসি-বিসিসিআই উভয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

অবস্থা বেগতিক দেখে এবার ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে ভারত। ক্রিকেট পাকিস্তান তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, পাকিস্তানে খেলতে যেতে না চাওয়ার কারণ হিসেবে বিসিসিআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রকাশ্যে বলছে। কিন্তু 'তলেতলে' তারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হাইব্রিড মডেলে অথবা ভারতে স্থানান্তরিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য তারা অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলোর সমর্থন পাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

আইসিসির রাজস্ব থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পায় বিসিসিআই, তা সবার জানা। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড যদি বিসিসিআইয়ের এই প্রস্তাবে রাজি হয়, তাহলে আইসিসির রাজস্ব থেকে ভারত যে অর্থের ভাগ পায়, সেখান থেকেও বড় অংশ পাবে দলগুলো।

বিসিসিআই অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডকে একটি হাইব্রিড মডেল বা টুর্নামেন্টটি ভারতে স্থানান্তরিত করতে সমর্থন করার জন্য রাজি করাতে কাজ করছে। এর বাইরে আর্থিক প্রণোদনা, লাভের অংশ এমনকি ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ভারতের বিপক্ষে আরও বেশি ম্যাচ খেলার প্রতিশ্রুতিও নাকি দিয়ে চলেছে বিসিসিআই।

ক্রিকেট-বিশ্লেষকেরা এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে বিসিসিআইয়ের অবস্থানের কিছু অসংগতি তুলে ধরেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ২০২১ সালে রমিজ রাজা পিসিবির চেয়ারম্যান থাকাকালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের বিডকে সমর্থন জানিয়েছিল ভারত। কয়েক মাস আগেও তারা কোনো ধরনের আপত্তি জানায়নি। হঠাৎ পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের বিরোধিতা শুরু করায় বিশ্লেষকেরা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য দেখছেন।

ভারত-পাকিস্তানের রেষারেষি নিয়ে জটিল সমস্যায় পড়েছে আইসিসি

এদিকে উপযুক্ত সমাধান খুঁজতে অংশগ্রহণকারী দেশের বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা অবশ্য জোর দিয়ে বলেছে, তারা শুধু বিসিসিআইয়ের কথায় প্রভাবিত হবে না। অংশগ্রহণকারী সব দল ও বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৪

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু আর নেই

 

মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু চলে গেলেন। তাঁর মৃত্যুর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এ খবর নিশ্চিত করেছে।


রোববার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আরও শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ায় তাঁকে সিসিইউতে রাখা হয়, কিন্তু আজ সকালে তিনি মারা যান।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের শীর্ষ ফুটবলাররা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গঠন করে, যা দেশের মানুষের মুক্তির পক্ষে বিশ্বজনমত তৈরি করেছিল। এই দলটি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ১৬টি ম্যাচের মধ্যে ১২টিতে জয়ী হয় এবং ম্যাচের টিকিট বিক্রির অর্থ মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের সরকারের তহবিলে দান করে।

জাকারিয়া পিন্টু ২০১৪ সালে প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ফুটবল দলকেও নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ১৯৭৩ সালে মালয়েশিয়ার মারদেকা কাপে অংশ নেন। তিনি একজন অসাধারণ ডিফেন্ডার এবং সংগঠক হিসেবেও বাংলাদেশের ফুটবলে বিশেষ স্থানের অধিকারী ছিলেন।

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৪

বিয়ারের ক্যান ছুড়লেন প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকেরা, মাথা ফাটল মেক্সিকো কোচের

 ফুটবল মাঠে ম্যাচ চলাকালে কিংবা ম্যাচের সময় গ্যালারি থেকে দর্শকদের বোতলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছুড়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও লিওনেল মেসি কর্নার নিতে গেলে বোতল ছুড়ে দিতে দেখা যায় এক দর্শককে। সেই বোতল অবশ্য মেসির গায়ে লাগেনি, তিনি নিজে গিয়ে সরিয়ে দেন বোতলটি।

মেসিকে বোতল ছুড়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে এখনো চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে সেই ঘটনার রেশ শেষ হওয়ার আগেই বোতল-কাণ্ডে রীতিমতো রক্তারক্তি হয়ে গেছে আরেকটি ম্যাচে।

ঘটনাটি ঘটেছে কনক্যাকাফ নেশনস লিগে মেক্সিকো-হন্ডুরাস ম্যাচে। হন্ডুরাসের মাঠে এই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছে মেক্সিকো। আর ম্যাচ হারের পর মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আগে আকস্মিকভাবে একটি উড়ন্ত বিয়ারের ক্যান এসে লাগে মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরের মাথায়। বোতলের আঘাতে আগুইরের মাথা ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়তেও দেখা যায় এ সময়। পরে জানা গেছে, এই ঘটনায় মেক্সিকান কোচের মাথায় লেগেছে চারটি সেলাই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ম্যাচ শেষে আগুইরে যখন হাত মেলানোর উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের ডাগআউটের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন কাছের স্ট্যান্ড থেকে রীতিমতো বোতল-বৃষ্টি ঝরছিল। আর সেই উড়ন্ত বোতলগুলোর একটি এসে লাগে আগুইরের মাথায়। রক্তাক্ত মাথা নিয়েও অবশ্য বিচলিত দেখা যায়নি সাবেক আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচকে।

এ সময় অবশ্য হন্ডুরাস দলের অনেকেই ছুটে আসেন আগুইরেকে সাহায্য করার জন্য। যদিও সেসব পাত্তা না দিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলানো ও শুভেচ্ছা জানানো অব্যাহত রাখেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ।

ম্যাচ শেষে এই ঘটনা নিয়ে আগুইরে বলেছেন, 'এটাই ফুটবল। কোনো ব্যাপার না।' অন্যদিকে এই ঘটনায় পুরো মেক্সিকো দল, মেক্সিকোর জনগণ এবং আগুইরের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছেন হন্ডুরাস কোচ রেইনালদো রুয়েদা।

ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে ম্যাচ চলাকালেই হন্ডুরাসের সমর্থকদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আগুইরে। এ সময় স্বাগতিক দর্শদের উদ্দেশে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতেও দেখা যায় মেক্সিকান কোচকে। আর দুই পক্ষের এই রেষারেষি ও বিতণ্ডার জেরেই হয়তো ম্যাচ শেষে ঘটেছে বোতল নিক্ষেপের এই ঘটনা।

শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৪

এক বছরে ‘৪৯ সেঞ্চুরি’ করা ১৩ বছর বয়সী ছেলেটি এবার আইপিএলের নিলামে


বয়স ১৩ বছর ২৩৪ দিন — এরই মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটে বৈভব সূর্যবংশীর নামটা বহুবার উচ্চারিত হয়েছে। এই বয়সেই খেলেছে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ টেস্ট দলে। গত মাসে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে করেছে ৫৮ বলে সেঞ্চুরি, যুব টেস্টের ইতিহাসে যা দ্বিতীয় দ্রুততম এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির রেকর্ড।

এই বৈভব এবার জায়গা পেয়েছে আইপিএল নিলামে চূড়ান্ত তালিকায়। নিলামে উঠতে যাওয়া ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকা গতকাল প্রকাশ করেছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ।

বৈভবের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। বয়স ১৩ হলেও এরই মধ্যে খেলেছে রঞ্জি ট্রফিতে। বিহারের হয়ে ১২ বছর ২৮৪ দিন বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষিক্ত হয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল বৈভব। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে শুরুটা অবশ্য তেমন ভালো হয়নি। ৫ ম্যাচে এখন পর্যন্ত মোট রান করেছে ১০০। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ৪১, সেটি এসেছে এই নভেম্বরেই।

এ ছাড়া বৈভব হেমান ট্রফি, কোচবিহার ট্রফিতেও খেলেছে। বিহারের আন্তজেলা টুর্নামেন্ট হেমান ট্রফিতে ৮ ম্যাচে ৮০০ রানের বেশি করেছিল বৈভব। এরপর ভিনু মানকড় ট্রফিতে পাঁচ ম্যাচে করে ৪০০ রান।

বিহার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত রানধির বার্মা অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডেতে ট্রিপল সেঞ্চুরিও আছে বৈভবের। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, এক বছরে বৈভব বিভিন্ন টুর্নামেন্টে মোট ৪৯টি সেঞ্চুরি করেছে, এমন দাবিও নাকি করেন কেউ কেউ। তবু মিচেল স্টার্কদের বল খেলছে ১৩ বছর বয়সী একটি ছেলে, ভাবতে অন্য রকমই লাগে! অবশ্য আইপিএলে তো অনেক কিছুই সম্ভব!

বৈভবের নাম নিলামে ডাকা মানেই ওকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কিনবেই, সমীকরণটা এত সহজ নয়। আইপিএলের দলগুলো নানা দিক বিবেচনা করেই দলে ক্রিকেটারদের নেয়। তবে ভবিষ্যৎ বিবেচনায় এখন কম মূল্যে বৈভবকে কিনে রাখতেও পারে যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। দলের সঙ্গে রেখে প্রস্তুত করে ভবিষ্যতে খেলাবে এমনও হতে পারে। বৈভব শেষ পর্যন্ত দল পাবেন কি না, সেটা জানা যাবে ২৪ ও ২৫ নভেম্বরে।

আইপিএলের মেগা নিলাম এবার হবে জেদ্দায়। দুই দিনে ৫৭৪ ক্রিকেটারকে নিলামে তোলা হবে। এর মধ্যে ৩৬৬ জন ক্রিকেটার ভারতীয় ও ২০৮ জন বিদেশি। নিলামে আছেন অভিষেক না হওয়া ৩১৮ জন ভারতীয়, অভিষেক না হওয়া ১২ জন বিদেশি ক্রিকেটার। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ২০৪ জন ক্রিকেটার কিনতে পারবে, যেখানে বিদেশিদের জন্য জায়গা আছে ৭০টি।

বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৪

ভারতের আপত্তি, পাকিস্তানের হুমকি, আইসিসি খুঁজছে সমাধান

 ভারতের আপত্তি, পাকিস্তানের হুমকি, আইসিসি খুঁজছে সমাধান



ভারত
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে যাবে না, পাকিস্তানও 'হাইব্রিড মডেলে' টুর্নামেন্ট করতে রাজি নয়। আগামী বছর ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টটি তাহলে হবে কীভাবে?

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে এই যে জটিলতা, সেই বিষয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি।

খোঁজখবর যা জানা যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম থেকে। বিসিসিআই নাকি আইসিসিকে চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছে, তারা পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে যাবে না। আইসিসি সেই চিঠির কথা আবার জানিয়েছে পিসিবিকে। চিঠি পেয়ে পিসিবি আবার আইসিসির কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

সর্বশেষ খবর, আইসিসি পিসিবির সেই চিঠির ভিত্তিতে কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়েছে বিসিসিআইয়ের কাছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভাগ্য তাই আপাতত ঝুলে আছে এই চিঠি চালাচালির মধ্যেই।

নিরাপত্তার শঙ্কায় পাকিস্তানে ১৬ বছর ধরে খেলতে যায় না ভারতছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের জিও টেলিভিশনের ওয়েবসাইট জিও সুপার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসিকে লেখা চিঠিতে



পিসিবি
বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বিসিসিআই কখন আইসিসিকে জানিয়েছে যে তারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে দল পাঠাবে না।

এটা যদি ভারতের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে তারা কী কারণ দেখিয়েছে। পিসিবি আইসিসিকে পাঠানো বিসিসিআইয়ের সেই চিঠির প্রতিলিপি দেখতে চায়, যাতে তারা নিজেরা এর একটা পর্যালোচনা করতে পারে। বিসিসিআইয়ের চিঠির জবাবে আইসিসি কী লিখেছে, বা আদৌ কোনো জবাব দিয়েছে কি না, সেটাও পিসিবি জানতে চায়।

পিসিবির একটি সূত্র জিও সুপারকে জানিয়েছে, আইসিসির কাছ থেকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে তারপর পিসিবি বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া বা পাকিস্তান সরকারের পরামর্শ চাওয়ার কথা ভাববে।

সূত্র এটাও জানিয়েছে, ভারত যদি সত্যিই পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে রাজি না হয়ে থাকে, এবং আইসিসি সেটা মেনে নিয়ে থাকে, তাহলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি যেখানে বা যেভাবেই হোক, তাতে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলবে না। যদিও রকম একটি টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়া মানে আইসিসির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়া।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর, আইসিসি এশিয়া কাপের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও হাইব্রিড মডেলে করতে চায়, যেখানে পাকিস্তানেই মূল টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো হবে, আর ভারতের ম্যাচগুলো হবে অন্য কোনো দেশে। আইসিসির আরেকটি বিকল্প ভাবনা হচ্ছে, আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানকে রেখে পুরো টুর্নামেন্টই অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া। সেই দেশটা দক্ষিণ আফ্রিকা হতে পারে বলেও গুঞ্জন আছে।

তবে পিসিবি সূত্রের দাবি, পাকিস্তান রাজি না হলে আইসিসির পক্ষে এই টুর্নামেন্ট হাইব্রিড মডেলে আয়োজন করা আইসিসির জন্য কঠিন। আয়োজক দেশের অনুমতি ছাড়া টুর্নামেন্ট হাইব্রিড মডেলে আয়োজন করা বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।

পিসিবির সেই সূত্র উদাহরণ হিসেবে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা বলেছে, 'যদি ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা আপনাদের মনে থেকে থাকে, যুক্তরাজ্য সরকার জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের রাজনৈতিক কারণে ভিসা দিতে আপত্তি করেছিল। কিন্তু তখন পুরো টুর্নামেন্ট ইংল্যান্ড থেকে সরিয়ে নেওয়ার বদলে আইসিসি একটি মধ্যপন্থা বের করেছিল। যার ফলে জিম্বাবুয়ে টুর্নামেন্ট থেকে নিজেরাই নাম প্রত্যাহার করে নেয় এবং তাদের বদলে স্কটল্যান্ড অংশ নেয়। এতে বোঝা যায়, যৌক্তিক কারণ ছাড়া মূল আয়োজকদের বাদ দিয়ে টুর্নামেন্ট অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া আইসিসির জন্য মোটেও সহজ নয় এবং শুধু একটি দেশের নির্দেশে তো নয়ই।'

 

২০২৩ এশিয়া কাপের মতো ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও হাইব্রিড মডেলে আয়োজনের পক্ষে ভারত

এদিকে ক্রিকেট পাকিস্তানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু আইসিসি নয়, ব্যাপারে অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করছে পিসিবি। ভারতের অবস্থানের ব্যাপারে পিসিবি অন্য বোর্ডগুলোর মতামতও জানতে চায়।

সব মিলিয়ে আইসিসি পড়েছে জটিল এক পরিস্থিতিতে। ক্রিকেট পাকিস্তানের ওই প্রতিবেদনেই দাবি করা হয়েছে, পিসিবি যেসব বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়েছে, বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে ব্যাখ্যা নিয়েই সেগুলোর জবাব দেবে আইসিসি। ছাড়া সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান কী হতে পারে, সেটা বোঝার জন্য অন্য বোর্ডগুলোরও পরামর্শ চাইবে আইসিসি।

সূচি অনুযায়ী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু হতে আর তিন মাসের

Comments System

Disqus Shortname

Blogger দ্বারা পরিচালিত.