Header Ads

বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৫

সালাহ, কেইন, নাকি লেভা—সোনালি জুতার প্রতিযোগিতায় কে এগিয়ে রয়েছে।

https://sportsworldbd9022.blogspot.com/

সালাহ, কেইন, না লেভা—সোনার জুতার লড়াইয়ে কে এগিয়ে 


এবার কি তবে অবশেষে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিততে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহ? আভাস সে রকমই। তবে মৌসুমের শেষে এসে যদি রবার্ট লেভানডফস্কি বা হ্যারি কেইন অবিশ্বাস্য কিছু করে ফেলেন, আরও একবার হতাশ হতে হবে লিভারপুলের মিসরীয় ফরোয়ার্ডকে। আরও একবার কথাটা বলা হচ্ছে, কারণ আগেও বেশ কয়েকবার এই পুরস্কার জেতার খুব কাছে গিয়েছিলেন সালাহ, শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি। অন্যদিকে লেভানডফস্কি, কেইন কিংবা আর্লিং হলান্ডের এরই মধ্যে সৌভাগ্য হয়েছে পুরস্কারটি জেতার। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু কী সহজ কথায়, প্রতি মৌসুমে ইউরোপের প্রতিটি দেশের সর্বোচ্চ লিগগুলোর মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি গোল করেন, তাঁকে দেওয়া হয় সোনার বুট, যে পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক নাম ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। এমনিতে ইউরোপের সব লিগই আলাদা করে প্রতি মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে গোল্ডেন বুট পুরস্কার দেয়। তবে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু তাঁকেই দেওয়া হয়, যিনি পুরো ইউরোপে সব লিগ মিলিয়ে গোলের জন্য সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পান। পয়েন্ট হিসাব করা হয় গোলসংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট লিগের মানের ওপর ভিত্তি করে। পুরস্কারটা দেওয়া শুরু করে ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক ‘লেকিপ’, ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে। তখন এর নাম ছিল ‘সোলিয়ের ডি’অর’, ফরাসি ভাষায় যার অর্থ ‘সোনালি জুতা’। প্রথম দিকে এই পুরস্কার পুরো ইউরোপের যেকোনো লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হতো। তখন লিগের শক্তি বা কোন খেলোয়াড় কত ম্যাচ খেলেছেন, সেগুলো বিবেচনা করা হতো না। এভাবে চলেছে ১৯৬৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ওই সময়ে ইউসেবিও, গার্ড মুলার, দুদু জর্জেস্কু ও ফার্নান্দো গোমেসের মতো কিংবদন্তিরা এই পুরস্কার জিতেছেন একাধিকবার। ১৯৯১-৯২ মৌসুমের পুরস্কার দিতে গিয়ে একটি বিতর্কের মধ্যে পড়ে লেকিপ। সাইপ্রাস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দাবি করে যে তাদের দেশের একজন খেলোয়াড় ৪০টি গোল করে ওই মৌসুমের পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। যদিও লেকিপের বিচারের সেই মৌসুমে যে দুজন সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন, তাঁদের নামের পাশে ছিল ১৯টি করে গোল। ওই বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায় ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কার দেওয়া এবং ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত স্থগিতই থাকে। অবশেষে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ইউরোপিয়ান স্পোর্টস মিডিয়া নতুন করে এ পুরস্কার চালু করে। তবে তখন নতুন কিছু নিয়ম যুক্ত করা হয়। চালু হয় নতুন এক পয়েন্ট সিস্টেম। কীভাবে জয়ী বির্ধারণ করা হয় নতুন নিয়মানুযায়ী, উয়েফা কো–ইফিসিয়েন্ট তালিকায় প্রথম পাঁচটি লিগের প্রতিটি গোলকে দুই দিয়ে গুণ করে পয়েন্ট দেওয়া হয়। ৬ থেকে ২২ র‍্যাঙ্কের লিগের গোলকে ১.৫ দিয়ে গুণ করা হয় এবং ২২-এর নিচের র‍্যাঙ্কের লিগের গোলকে ১ দিয়ে গুণ করা হয়। এর মানে হচ্ছে ভালো লিগের গোলগুলো দুর্বল লিগের গোলের চেয়ে বেশি মূল্যবান। এভাবে হিসাব করে যিনি সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাবেন, তিনিই জিতবেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। এই হিসাব করেই পরে ইউরোপিয়ান স্পোর্টস মিডিয়া ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যাওয়া পুরস্কারও দেয়। এই পরিবর্তনের পর শুধু দুজন খেলোয়াড় শীর্ষ পাঁচটি লিগের বাইরে খেলে এই পুরস্কার জিতেছেন—২০০০-০১ মৌসুমে স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগের হেনরিক লারসন এবং ১৯৯৮-৯৯ ও ২০০১-০২ মৌসুমে পর্তুগিজ লিগার মারিও জার্ডেল। আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে পরবর্তী সময়ে। আগে একাধিক খেলোয়াড় যৌথভাবে এই পুরস্কার জিততে পারতেন। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে নতুন নিয়ম করা হয়, পয়েন্ট সমান হলে কম সময় খেলা খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করা হবে। যদি তারপরও সমতা থাকে, তবে লিগে অ্যাসিস্টের সংখ্যা এবং তারপরও সমতা থাকলে কম পেনাল্টি গোল বিবেচনা করা হবে। শেষ পর্যন্ত যদি সমতা না ভাঙে, তবে পুরস্কারটি ভাগ করে দেওয়া হব এবার কারা এগিয়ে শুরুতেই বলা হয়েছে, এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত লিভারপুলের সালাহই এগিয়ে। ৩৩ ম্যাচে সালাহ গোল করেছেন ২৭টি। প্রিমিয়ার লিগের কো–ইফিসিয়েন্ট র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী তাঁর পয়েন্ট ৫৪। সালাহর খুব কাছেই যিনি আছেন, তাঁর নামটা ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা অচেনা লাগতে পারে। স্পোর্টিং লিসবনের সুইডিশ ফরোয়ার্ড ভিক্টর গিওকেরেস, ২৯ ম্যাচে যিনি করেছেন ৩৪ গোল। তবে পর্তুগিজ লিগের কোইফিসিয়েন্ট পয়েন্ট ১.৫ হওয়ায় গিওকেরেসের মোট পয়েন্ট ৫১। এই দুজনের পরেই আছেন বার্সেলোনার পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি, ৩১ ম্যাচ ২৫ গোল করা লেভার পয়েন্ট ৫০। চার নম্বরে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন, ২৮ ম্যাচে ২৪ গোলে তাঁর পয়েন্ট ৪৮। পাঁচে থাকা আতালান্টা ফরোয়ার্ড মাতেও রেতেগুই ৩১ ম্যাচে করেছেন ২৩ গোল, পয়েন্ট ৪৬। এ ছাড়া ২৯ ম্যাচে ২২ গোলে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের আরও ৫ ম্যাচ বাকি, লা লিগায় বার্সেলোনারও তা-ই। তবে চোট পাওয়ায় লেভার সবগুলো ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। এই জায়গায় সালাহ তাই এগিয়ে থাকছেন। অবশ্য লিভারপুলের প্রিমিয়ার লিগ নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে পরের ম্যাচেই। সে ক্ষেত্রে লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট চাইলে সালাহকে বাকি ম্যাচগুলোতে বিশ্রামও দিতে পারেন। যদি সে রকম কিছু হয়, তখন কিন্তু লেভা কিংবা কেইনের সুযোগ কিছুটা বেড়ে যাবে। অবশ্য এরই মধ্যে যদি কেউ কোনো ম্যাচে জোড়া গোল বা হ্যাটট্রিক করে ফেলেন তখন তাঁর সম্ভাবনাই থাকবে বেশি। সোনার জুতার লড়াইয়ে শীর্ষ ৫ খেলোয়াড় দল/লিগ ম্যাচ গোল পয়েন্ট মোহাম্মদ সালাহ লিভারপুল/ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ৩৩ ২৭ ৫৪ ভিক্টর গিওকেরেস স্পোর্টিং সিপি/পর্তুগিজ লিগা ২৯ ৩৪ ৫১ রবার্ট লেভানডফস্কি বার্সেলোনা/স্প্যানিশ লা লিগা ৩১ ২৫ ৫০ হ্যারি কেইন বায়ার্ন মিউনিখ/জার্মান বুন্দেসলিগা ২৮ ২৪ ৪৮ মাতেও রেতেগুই আটালান্টা/ইতালিয়ান সিরি আ ৩১ ২৩ ৪৬



সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫

চট্টগ্রাম টেস্ট: বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের প্রথম দিন

https://sportsworldbd9022.blogspot.com/


চট্টগ্রাম টেস্ট: বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের প্রথম দিন বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শুরু হলো এক চমকপ্রদ পরিস্থিতিতে। জিম্বাবুয়ে ২ উইকেটে ৮৯ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে দাঁড়িয়ে গেছে। এই খেলাটির গুরুত্ব অনেক বেশি কারণ এটি দলে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে, আবার হার ঝুঁকি থাকছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দিনটির ফলাফল বেশ কিছু প্রসঙ্গ তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের শুরু ও পরিকল্পনা

বল তালিকা ও ধরণ

বাংলাদেশের বোলাররা প্রথমে দুই পেসার দিয়ে শুরু করে। তারা দ্রুত বল দেখে শুরুর লক্ষ্য রেখেছিল। প্রথম ওভারগুলো খুব সচেতনভাবে নেন তারা, অনেকটাই ঠান্ডা মাথায়। প্রথম কয়েকটি বলের মধ্যে কৌশল ছিল ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখা। ওভারগুলো ছিল সাধারণ তবে কৌশলগতভাবে সঠিক।

উইকেটের ধরন ও প্রভাব

চট্টগ্রামের উইকেটের বৈশিষ্ট্য হলো স্পিনের কম সুযোগ থাকা। বল সাধারণত বেশি সঞ্চালনে যায় না, তাই পেসারদের জন্য ব্যাটসম্যানদের স্ট্যাবিলিটি আলাদা। ম্যাচের আবহাওয়া ছিল গরম ও আর্দ্র, পিচে অল্প কিছু বল সুইং করলেও সাধারণত বলের আচরণ বিশেষ কিছু হয়নি। এই ধরনের উইকেটের জন্য বেশ ধৈর্য্য ও কঠোরতা দরকার।

শক্তিশালী বোলিং অবদান

উভয় পেসার নিজেদের স্পেলে বেশ শক্তি দেখিয়েছেন। প্রথম সারির বোলাররা কয়েকটি ভালো সুইং করলেও উইকেটের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছিল। তাদের ক্যারেকটারিস্টিকস হলো নিরবচ্ছিন্ন ওয়েবার, কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। বলের আচরণে কিছুটা অস্থিতিশীলতা থাকায় উইকেট পাওয়া যায়নি। দলের অন্য পরিকল্পনা ছিল ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করা।

বাংলাদেশ দলের বোলিং ও ফিল্ডিং অর্গানাইজেশন

বোলারদের পরিকল্পনা এবং পরিবর্তন

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে বল পরিবর্তনের সময় কখন ও কেন করেছে—এ প্রশ্ন উঠতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত বল দিয়ে চাপ তৈরি করা। বেশ কিছু ক্ষেত্রে বল দ্রুত পরিবর্তন করা হয়েছিল যাতে ব্যাটসম্যানরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে কিছু ভুল আপরা, যেমন বলের লেন্থে অসঙ্গতি বা বলের গতিতে বিভ্রান্তি, দেখা গেছে।

ফিল্ডিং স্ট্র্যাটেজি ও প্রভাব

ফিল্ডিং ছিল বেশ সতর্ক ও পরিশীলিত। কেমন ফিল্ড সেটিং করা হলো তা দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী। নির্দিষ্ট জায়গায় সেট ছিল—যার ফলে ব্যাটসম্যানরা চাপে পড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রের অবস্থান নিশ্চিত করে ব্যাটসম্যানদের খেলায় বাধা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু সময় ভুল ফিল্ডিং স্ট্র্যটেজ গুলোর কারণেও উইকেটের দৌড় তেমন যায়নি।

জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং পারফর্মেন্স ও সম্ভাব্য কৌশল

ব্যাটসম্যানদের রানে স্থিতিশীলতা ও খেলায় ধ্যান

ব্যাটসম্যানরা বেশ কিছু অ্যাকুরেসি দেখিয়েছেন, মাঠে স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছেন। কিছু বিশেষ ক্রিকেটার নিজের দক্ষতা দেখিয়ে বলের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছেন। তাদের জন্য ম্যাচের পরিস্থিতি অনেক সুবিধাজনক ছিল, কারণ উইকেট সহয়তা কম থাকলেও তারা ধৈর্য্য দেখিয়েছেন। এটাই হয়তো জিতের জন্য বড় পার্থক্য।

পরবর্তী রাউন্ডের জন্য সম্ভাব্য কৌশল

অধিনায়কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বলের সঠিক ব্যবহার। তারা হয়তো আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বা আক্রমণ বাড়াতে পারে। স্কোয়াডে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকবে, যেন আরও আক্রমণাত্মক বা রক্ষণাত্মক মনোভাব দেখানো যায়। দলের যে কোনও পরিবর্তন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য ও উন্নতি

বাংলাদেশের জন্য দরকার বলের পরিকল্পনা ও ব্যাটিং ধীরগতি নিয়ন্ত্রণ করা। খেলোয়াড়দের ক্রমাগত সতর্ক থাকতে হবে ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। দ্রুত উইকেট হারানো এড়িয়ে চলা অন্যতম লক্ষ্য, যাতে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

জিম্বাবুয়ের সম্ভাব্য উন্নয়নের ধাপ

বিদেশি দলের জন্য নিজের শক্তিতে বিশ্বাস রাখা জরুরি। তাদের বোলিং আরও কৌশলী করতে হবে। ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। পরবর্তী মুহূর্তে তারা কি পরিবর্তন আনবে, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যদ্বাণী

 Image

বিশ্লেষকদের আভাসে, এই দিনটি ক্রমশ ম্যাচের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। যদি জিম্বাবুয়ে তাদের ব্যাটিং ধারাবাহিকতা রাখতে পারে, তাহলে ম্যাচের ফলাফল অপ্রত্যাশিত হতে পারে। তবে বাংলাদেশ যদি বলের ধরন ও ফিল্ডিংয়ে কিছু উন্নতি করে, তাহলে তারা এগিয়ে যেতে পারে।


ম্যাচের এই দিনটা দেখিয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটে সবকিছুই চলমান। ধৈর্য্য ও পরিকল্পনা জরুরি, কারণ এক ভুলই বদলে দিতে পারে ফলাফল। উইকেটের ধরন বুঝে সঠিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাটসম্যানরা যত বেশি ধৈর্য্য ধরে খেলবেন, ততই ম্যাচের দিক পরিবর্তন হবে। দর্শকদের জন্য আমাদের শেখা, ক্রিকেটে সময় ও ধৈর্য্য সব চাইতে বড় শক্তি। ভবিষ্যতের জন্য মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন ও পরিকল্পনা করলেই সফলতা আসবে।

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫

আবার হৃদয়ের গোঁয়াড়ামি ফের নিষেধাজ্ঞার খড়গ: তাওহীদ হৃদয়ের অস্থিরতা ও ক্রিকেটে প্রভাব

 Image

আবার হৃদয়ের গোঁয়ার্তুমি, ফের নিষেধাজ্ঞার খড়গ: তাওহীদ হৃদয়ের অস্থিরতা ও ক্রিকেটে প্রভাব

 হৃদয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও তার সংশয়

তাওহীদ হৃদয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল তারকা। সদাকাট শরীর, ফুরফুরা স্বভাবের এই ক্রিকেটারটির চলতি বছরগুলো অনেক খটমট হয়ে গেছে। সম্প্রতি তার কিছু আচরণে অস্থিরতা দেখা গেছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তার অপ্রত্যাশিত ব্যবহারে অনেকের মনে সন্দেহ জাগছে। এই ঘটনাগুলো তার মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে, যা আরও বড় বিপদে ফেলতে পারে। এই অবস্থায় তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, যেখানে মনোভাব আর মানসিক সুস্থতা খুব জরুরি।

তাওহীদ হৃদয়ের সাম্প্রতিক ঘটনায় বিস্তারিত বিশ্লেষণ

ক্ষোভের কারণসমূহ ও পরিস্থিতির বিবরণ

সম্প্রতি মাঠে বা ব্যক্তিজীবনে তার আচরণে অস্থিরতা স্পষ্ট। অনেকের প্রশ্ন, কেন এত হঠাৎ অসন্তোষ? সত্যি বলতে, সে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক চাপ সহ্য করতে পারছে না। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাওহীদ বেশ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলতে অভ্যস্ত। কিন্তু এই বছর তার চাপের মাত্রা অনেক বেড়েছে। তার অপ্রিয় ঘটনাগুলো দেখে বোঝা যায়, সে মানসিকভাবে অনেক দুর্বল। মাঠের দৌড়ে কিংবা রাগের প্রকাশে তার মনোভাব স্পষ্টই বোঝায়, সে চাপের মাঝে রয়েছেন।

এই ঘটনার প্রভাব খুবই গভীর। সম্ভবত তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বড় ক্ষতি হবে। দলের অন্য খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফও এই পরিস্থিতিতে হতাশ। আসন্ন ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্সেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এমন আচরণ ছড়িয়ে পড়ায়, সংশ্লিষ্ট সবাই উদ্বিগ্ন। ভবিষ্যতে, তার জন্য মানসিক সাহচর্য এবং মনোভাবের উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা এবং এর প্রভাব

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়ের অপ্রতিষ্ঠিত আচরণ বা অনিয়মের জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। যেমন, দুর্ব্যবহার বা খেলাধুলার মান ক্ষুণ্ণ হলে জারিমানা বা শাস্তি ভোগ করতে হয়। এমন নিয়মাবলী, দেশের ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে অনেক তারকা এই নিয়ম লঙ্ঘনে কার্যকর শাস্তি পেয়েছেন। তারাই শিখেছেন, মানে না মানে ক্ষতি যা-ই হোক না কেন, ফল ভুগতেই হয়।

নিষেধাজ্ঞা খেলোয়াড়ের মানসিক স্বাস্থ্যে বড় আঘাত করতে পারে। অনেক খেলোয়াড় অসুবিধা হয় মানসিক চাপের কারণে। নিষেধাজ্ঞা যতই লম্বা থাকুক, তার মানসিক শক্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। এ কারণে মানসিক প্রস্তুতি ও প্রেরণা গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে পেশাদার মনোচিকিৎসা বা কাউন্সেলিং একটা বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে। ফলে, খেলোয়াড়রা আরও দৃঢ়ভাবে ফিরে আসতে পারে।

তাওহীদ হৃদয়ের মানসিক ও মনোভাবের উন্নয়ন

মনোচিকিৎসা মানে শুধু সমস্যা সমাধান নয়; এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সর্বোত্তম উপায়। বিশেষ করে যারা চলমান চাপের মধ্যে থাকেন, তাদের জন্য এটা খুবই জরুরি। মনোচিকিৎসা তাদের বুঝতে সহায়তা করে, নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় শেখায়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়। বাড়তি মনোযোগ দিয়ে নিজেদের মানসিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


ভবিষ্যত নির্দেশনা ও করণীয়

দলের প্রেক্ষাপটে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ

প্রথমত, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তা-নির্দেশকরা তাওহীদ হৃদয়কে মূল্যায়ন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তার মানসিক দিকটি শক্ত করে তোলা। বোর্ডের উচিত বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি চালানো। তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য সঠিক মূল্যবোধ ও দলীয় ঐক্যের শিক্ষা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা কম হয়।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের ভূমিকা

পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা দায়িত্বশীলভাবে তার পাশে থাকতে হবে। তাদের সমর্থন ও ভালোবাসা খেলোয়াড়ের মানসিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা অবশ্যই প্রেরণা ও ইতিবাচক বার্তা দিতে পারেন। এতে তার মানসিক অস্থিরতা কমে আসে ও ফলে তার ক্যারিয়ার আবার জোয়াল হিসেবে ফিরে আসবে।

তাওহীদ হৃদয় এখন এক গুরুতর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে। তাকে শান্ত থাকতে হবে, নিজের মানসিক শক্তি ফিরে পেতে হবে। ক্রিকেটে সাফল্য মানে কেবল পারফরম্যান্স নয়; মনোভাব ও মানসিক সুস্থতা অনেক বড় বিষয়। তার জন্য এই কঠিন সময়টা শিক্ষা হিসেবে নিতে হবে। ভবিষ্যতে, সততা, অধ্যবসায় ও মানসিক স্থিতিশীলতা ছাড়া এগোনো যায় না।

প্রত্যেক ক্রিকেটারকে জানাতে চাই, ভুল হওয়া স্বাভাবিক। তবে, তাকে সংশোধন করে নতুন আত্মবিশ্বাসে ফিরে আসা সম্ভব। নিজের স্বপ্নগুলোকে আঁকড়ে ধরে, তার নিজেকে আবার শক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। ক্রিকেট মাঠের বাইরেও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া জরুরি। একটাই নীতিকে মনে রাখতে হবে—সৎ ও সততায় থাকলেই সত্যিকার সফলতা আসে।

শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিসিবি মুখ খুলেছে

                                      অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিসিবির প্রতিক্রিয়া


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু সংবাদ প্রতিবেদনকে ‘ভুল তথ্যভিত্তিক’ ও ‘সভাপতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে সাজানো’ বলে অভিহিত করেছে। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড দাবি করেছে, এসব অভিযোগ সত্য নয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


https://sportsworldbd9022.blogspot.com/বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের পর (আগস্ট ২০২৪) থেকে আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অতীতে বোর্ডের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

এক্ষেত্রে, বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ও ইয়েলো জোনে থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গেই লেনদেন চালিয়ে যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে ২৫০ কোটি টাকা তুলে, এর মধ্যে ২৩৮ কোটি টাকা নিরাপদ ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং বাকি ১২ কোটি টাকা বোর্ডের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিসিবি জানায়, ব্যাংক পরিবর্তন কিংবা অর্থ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত এককভাবে সভাপতির নয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুইজন বোর্ড কর্মকর্তা—বিসিবির ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা ও টেন্ডার ও পারচেজ কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম—স্বাক্ষর করেছেন। সভাপতি এখানে স্বাক্ষরকারী নন।

বিসিবি আরও দাবি করেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে ১৩টি নির্ভরযোগ্য ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অর্থ ও স্থায়ী আমানত সংরক্ষিত রয়েছে। এর ফলে বোর্ড ২–৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুদ আয় করছে, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া, গত ছয় মাসে এই ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বিসিবি প্রায় ১২ কোটি টাকার স্পনসর পেয়েছে এবং ভবিষ্যতের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরও ২০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিলেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যারা গঠনমূলক ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা করেন, তাদের প্রতি তাদের সম্মান রয়েছে। তবে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করে, সেদিকে সতর্ক থাকতে সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোর্ডের ভেতর ও বাইরে কিছু "স্বার্থান্বেষী মহল" অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিচালন ব্যবস্থা ব্যাহত করতে চাইছে বলেও বিসিবির বক্তব্য।

পাকিস্তানি বন্ধুকে দাওয়াত দিয়ে সমস্যায় পড়েছেন ভারতীয় স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট।

 

ভারতীয় অ্যাথলেট নিরাজ চোপড়ার পাকিস্তানি বন্ধুকে আমন্ত্রণ: দেশপ্রেম বনাম বিতর্ক

প্রধান ঘটনা:

  • আমন্ত্রণ ও উত্তেজনা: অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী ভারতীয় জ্যাভেলিন থ্রোয়ার
    নিরাজ চোপড়া পাকিস্তানের অ্যাথলেট আরশাদ নাদিমকে একটি ইভেন্টে আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণ কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার দুই দিন আগে পাঠানো হয়েছিল।
  • পাকিস্তানি অ্যাথলেটের যাত্রা বাতিল: হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আরশাদ ভারতে আসতে অসম্মতি জানান। এতে সামাজিক মাধ্যমে নিরাজের বিরুদ্ধে "দেশদ্রোহিতা"র অভিযোগ ওঠে।

নিরাজের ব্যাখ্যা ও ক্ষোভ:

  • খেলাধুলার সম্পর্ক: নিরাজ স্পষ্ট করেন, আমন্ত্রণ ছিল শুধুই দুই অ্যাথলেটের মধ্যে পেশাদার বন্ধুত্বের নিদর্শন। তিনি বলেন, "এটি রাজনীতি বা সীমান্তের ঊর্ধ্বে নয়, শুধুই ক্রীড়ার প্রতি শ্রদ্ধা।"
  • সামাজিক মাধ্যমের হামলা: তাঁকে "দেশবিরোধী" আখ্যা ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগারের প্রতিবাদে নিরাজ বলেন, "গত ৪৮ ঘণ্টায় আমার দেশপ্রেমকে প্রশ্ন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।"
  • মায়ের মন্তব্য: নিরাজের মা সরোজ দেবী ২০২৪ অলিম্পিকে আরশাদের স্বর্ণ ও নিরাজের রুপা জয়কে "দুই সন্তানের সাফল্য" বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর মন্তব্য তখন ভাইরাল হয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রীতিের বার্তা দিয়েছিল।
  • উভয় পরিবারের সমর্থন: আরশাদের মা রাজিয়া পারভিনও নিরাজের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে বলেছিলেন, "তারা শুধু বন্ধু নয়, ভাইয়ের মতো।"
  • ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক: আরশাদ নাদিম ৯২.৯৭ মিটার নিক্ষেপে বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণ জয় করেন। নিরাজ ৮৯.৪৫ মিটার নিয়ে রুপা পান।
  • বর্তমান টানাপোড়েন: কাশ্মীর হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। পানিচুক্তি স্থগিত ও কূটনৈতিক কর্মী হ্রাসের মতো পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
  • মন্তব্যের দ্বৈততা: নিরাজের মা সরোজ দেবীর অতীতের মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমেই এক বছর আগে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে একই বক্তব্যকে "রাষ্ট্রদ্রোহিতা" বলা হচ্ছে।
  • নিরাজের আবেদন: "আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদেরকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবেন না," বলেছেন তিনি।

এই ঘটনা ভারত-পাকিস্তানের ক্রীড়াঙ্গনে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সম্ভাবনাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নিরাজের মতো তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিভাবে জাতীয় রাজনীতির ময়দানে ব্যবহৃত হয়, তা এখন বিতর্কের বিষয়।

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

আমি সিনারের মতো কাজ করলে ২০ বছর জন্য নিষিদ্ধ হতাম—সেরেনার বিস্ফোরক বিবৃতি

 

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েও মাত্র তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন ছেলেদের টেনিসের বর্তমান ১ নম্বর খেলোয়াড় ইয়ানিক সিনার। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না মেয়েদের টেনিসের কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস। সেরেনা এ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে টেনিসে বর্ণবাদের উপস্থিতির ইঙ্গিতও দিয়েছেন।


সেরেনা বলেছেন, “যদি আমি ডোপ টেস্টে পজিটিভ হই, তাহলে হয়তো আমাকে ২০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতো। এমনকি আমার জেতা সব গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফিও কেড়ে নেওয়া হতো।” ২৩ বারের গ্র্যান্ড স্লাম একক চ্যাম্পিয়ন সেরেনা এই মন্তব্য করেছেন সিনারের শাস্তি প্রসঙ্গে।

২০২৪ সালের ডোপ-কাণ্ডে শাস্তি পাওয়া ইতালিয়ান তারকা সিনার দাবি করেছেন যে ফিজিও অসাবধানতায় তাঁর শরীরে নিষিদ্ধ শক্তিবর্ধক পদার্থ প্রবেশ করেছে। তিনি বৈশ্বিক অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা ওয়াডার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে লড়াই করছিলেন। তবে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়ে ‘ঝামেলামুক্ত’ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সিনার। আগামী মাসে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে তিনি কোর্টে ফেরার কথা জানান, যেখানে তিনি ২০২৪ সালের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন।

২০২২ সালে টেনিস থেকে অবসরের পর সেরেনা টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে কথা বলার সময় সিনারের প্রসঙ্গে বলেন, “আমি ছেলেটাকে পছন্দ করি, এবং এই খেলাটির জন্য সে দারুণ। আমি কারও পতন দেখতে চাই না। ছেলেদের টেনিসের তাঁকে দরকার।”

তবে এর পরেই সেরেনা ক্ষোভ প্রকাশ করেন, “যদি আমি এমন কিছু করতাম, তাহলে নিশ্চিত ২০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতাম। সত্যি বলছি, মনে হয় আমার জেতা সব গ্র্যান্ড স্লামও কেড়ে নেওয়া হতো।” 

সেরেনার মন্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স সিনার ও ওয়াডার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পায়নি। 

এছাড়া, সিনার ছাড়া সম্প্রতি মেয়েদের টেনিসের তারকা ইগা সিওনতেকও ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পর এক মাসের নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন।

বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫

১২ ইনিংসে ফিফটি নেই, কিন্তু মুশফিকের প্রতি আস্থা প্রমাণ করছে মুমিনুল

https://sportsworldbd9022.blogspot.com/ মুশফিকুর রহিমের নীরব ব্যাট ও সতীর্থের অটুট আস্থা




সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্লেসিং মুজারাবানির বলটি মুশফিকুর রহিমের ব্যাট স্পর্শ করে জিম্বাবুয়ের উইকেটকিপার নিয়াশো মায়াভোর গ্লাভসে গড়িয়ে পড়তেই শেষ হয় বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের আরেকটি নিরাশাজনক ইনিংস—০, ২, ৪, ৪ রানের ধারাবাহিকতা। টেস্টে গত ১২ ইনিংসে দুই অঙ্কের সীমা পেরোতে পারেননি তিনি, সর্বশেষ ফিফটি থেকে দূরে থাকলেন ২০২২ সালের পর থেকে। এমন রান খরায় আলোচনা-সমালোচনা স্বাভাবিক। তবে দলের সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হকের মতে, এই নিম্নফলকে "অফ ফর্ম" ভাবার কোনো কারণ নেই।

মুমিনুলের বিশ্বাস: "ফিরে আসবেনই"
মুশফিকের দীর্ঘদিনের সঙ্গী মুমিনুলের ভাষ্য স্পষ্ট, "আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। তিনি জানেন কীভাবে ফিরে আসতে হয়। বাংলাদেশের জন্য তাঁর অবদান ও সম্ভাবনা কখনই উপেক্ষার নয়।" মুমিনুলের দৃষ্টিতে, সীমিত ওভারসের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে শুধু টেস্টে মনোনিবেশ করায় মুশফিকের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে, "একটি ফরম্যাটে পুরো ফোকাস করলে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বাড়ে। আগের চেয়েও তিনি এখন ভালো করতে পারবেন।"

ঈর্ষণীয় রেকর্ড, কিন্তু বর্তমান চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে মুশফিকের অর্জনগুলো বিশাল—১০০ টেস্ট খেলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি যার তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি (২০০*, ২১৯, ২০৩*) এবং ১১টি সেঞ্চুরি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লাল বলেও তাঁর ব্যাট নিস্তেজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলমান সিরিজের আগে ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার সময় তাঁর শেষ তিন ইনিংস ছিল ২, ০, ১ রান। টেস্টে শেষ চার ইনিংসে ১৪ রানের সংগ্রহ প্রশ্ন তুলেছে ফর্ম নিয়ে, কিন্তু মুমিনুলের মতো সহযোদ্ধাদের আস্থা বলছে—অভিজ্ঞতার এই যাত্রাপথে নতুন অধ্যায় জুড়বে শীঘ্রই।

                                       



জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মুশফিকের সম্ভাবনা কেমন?


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের সম্ভাবনা মূলত দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নযোগ্য: ব্যক্তিগত ফর্মের চ্যালেঞ্জ এবং অভিজ্ঞতা-নির্ভর পুনরুত্থানের আশা। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের নিরিখে কিছুটা সংশয় থাকলেও, দলীয় সহযোদ্ধা ও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর রেকর্ড ও মানসিক দৃঢ়তা এখনও আশার আলো জাগায়।

১. সাম্প্রতিক দুর্বলতা: সংখ্যার আয়নায় প্রতিফলন

  • টেস্টে শেষ ৪ ইনিংস: ০, ২, ৪, ৪ রান (সর্বমোট ১৪ রান)
  • গত ১২ ইনিংসে: কোনো অর্ধ-শতক না করা, সর্বোচ্চ ৪৩ রান
  • সাদা বলের ক্রিকেট থেকে অবসর-পরবর্তী: ওয়ানডেতে শেষ তিন ইনিংসে ২, ০, ১ রান

এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করে, ব্যাটিং রিদম ও কনফিডেন্সে একটি ধারাবাহিক ঘাটতি চলছে। জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিপক্ষেও তাঁর ব্যাট নিষ্ক্রিয় থাকা উদ্বেগের কারণ।

২. আশার কারণ: অভিজ্ঞতা ও মনোনিবেশের সুযোগ

  • ১০০ টেস্টের মাইলফলকের কাছাকাছি: ৯৫ টেস্টে ৫,০০০+ রানের অভিজ্ঞতা, যা তাঁকে মেন্টাল রিজিলিয়েন্স ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে।
  • এক ফরম্যাটে ফোকাস: ওয়ানডে/টি২০ থেকে অবসর নিয়ে শুধু টেস্টে মনোযোগ দেওয়ায় টেকনিক্যালি শুদ্ধ খেলার সুযোগ বেশি।
  • মুমিনুল হকের বিশ্বাস: "তিনি জানেন কীভাবে ফিরে আসতে হয়। তাঁর রান বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।"

ঐতিহাসিক ডেটা: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকের গড় ৫২.৬৫ (৯ টেস্টে ৭৩৭ রান, ২ সেঞ্চুরি সহ)। এই দলের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স অতীতে ইতিবাচক ছিল, যা মানসিক সুবিধা দিতে পারে।


৩. চ্যালেঞ্জ: প্রেশার ও টেকনিক্যাল গ্যাপ

  • ফর্ম স্লাম্পের সাইকোলজি: দীর্ঘমেয়াদি低 রানের ধারা ক্রিকেটারদের জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, যা শট নির্বাচনে প্রভাব ফেলে।
  • বয়স ও ফিটনেস: ৩৬ বছর বয়সে রিফ্লেক্স ও ফুটওয়ার্কের গতি কিছুটা কমতে পারে, যা জিম্বাবুয়ের তরুণ বোলারদের সুযোগ করে দিতে পারে।

৪. সম্ভাবনার সমীকরণ

ম্যাচের প্রেক্ষাপটে দুটি ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ:

  • পিচের প্রকৃতি: সিলেটের স্পিন-ফ্রেন্ডলি পিচে মুশফিকের স্পিন বিপক্ষে রান সংগ্রহে দক্ষতা (ক্যারিয়ারে স্পিনারদের বিপক্ষে গড় ৫৫+) কাজে লাগানো যেতে পারে।
  • দলের ভূমিকা: মুশফিককে মিডল-অর্ডারে স্থিতিশীলতা আনতে হবে, যা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে গভীরতা দেবে।

মুমিনুলের মূল্যায়ন: "টেস্টে তিনি আগের চেয়েও ভালো করতে পারবেন, কারণ এখন শুধু এই ফরম্যাটেই তাঁর ফোকাস।"

 "বিপদে আশার আলো"

মুশফিকের সাম্প্রতিক স্ট্রাগল সত্ত্বেও, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাঁর ঐতিহাসিক সাফল্য এবং অভিজ্ঞতা-লব্ধ ধৈর্য্য একটি বড় ইনিংসের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। তবে, টেকনিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্ট (যেমন: ফ্রন্টফুট ডিফেন্সে স্থিতিশীলতা) এবং প্রেশার ম্যানেজমেন্টই হবে মূল চাবিকাঠি। মুমিনুল হকের মতো সতীর্থদের অটুট আস্থা এবং দলের প্রতি তাঁর নিজের দায়বদ্ধতা হয়তোবা এই ম্যাচেই একটি "কমব্যাক স্টোরি" রচনার প্রেরণা যোগাবে।

Comments System

Disqus Shortname

Blogger দ্বারা পরিচালিত.